আতাউর রহমান চঞ্চলঃ- সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে সাথে নিয়ে ওয়ারিশনামায় অন্ধ ভাইকে মৃত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেদাকুল গ্রামের বাসিন্দা শৈলেন্দ্রনাথ শীলের বড় ছেলে বাবু রাম শীল ওরফে দুলাল শীলের (৬৫) সাথে।
বাবু রাম শীল ওরফে দুলাল অভিযোগ করেন, পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে সে বড় বাবু রাম। জন্মের পর থেকেই
দুলালকে ভালোবেসে বাবু রাম বলে ডাকতেন তার দাদু মাহেন্দ্র শীল। তার দাদু জীবদ্দশায় তাকে ১৮ শতাংশ
সম্পত্তি লিখে দেন। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডাকনাম অনুযায়ী বাবু রামের নাম জন্মসনদ ও ভোটার আইডি কার্ডে দুলাল শীল আসে।
এই সুজোগ কাজে লাগিয়ে ছোট ভাই পিন্টু শীল খাঞ্জাপুর
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর আলম সেরনিয়াবাত ও ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদ ফকিরের সাহায্যে বাবু রামকে মৃত দেখিয়ে একটি ওয়ারিশনামা বানান।
বাবু রাম শীলের স্ত্রী মায়া রানী শীল নয়া দিগন্তকে অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী পেশায় একজন
একজন পাল্লী চিকিৎসক ছিলেন। অসুস্থ্যতাজনিত কারনে প্রায় ছয় বছর যাবত অন্ধত্ব বরণ করায় তিনি বর্তমানে কর্মহীন । আমার স্বামীর নামে বাড়িতে জমি থাকা সত্বেও আমি স্বামীকে নিয়ে বাসমানভাবে বসবাস করছি। অন্যের জামতে ছোট্ট একটি ঘর বানিয়ে থাকছি। আমার দেবর পিন্টু শীল খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুর আলম সেরনিয়াবাতের কাছ থেকে আমার স্বামীকে মৃত
দেখিয়ে ওয়ারিস সনদ তুলে আমার স্বামীর জমি আত্মসাত করেছে। আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নূর আলম সেরনিয়াবাতকে খুঁজতে ইউনিয়ন
পরিষদে গেলে জানা যায় ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আর পরিষদে আসেননি তিনি। পরে তার (চেয়ারম্যান)
মুঠোফোনে একাধীকবার কল করলেও তাকে পাওয়া যায় নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শহিদ ফকির অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাবু রাম ও দুলাল একই ব্যক্তি। তবে তার (বাবু রাম) ছোট ভাই পিন্টু শীল সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার জন্য আমাকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। আমি এই বিষয়ে মামলা দায়ের করবো।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আবদুল্লাহ খান জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।