মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ-
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ হেমায়েত হোসেন খানের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে অপব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত নাজমুল হাসান ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে এই অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক হেমায়েত হোসেন খান।
সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৬ জুন নাজমুল হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে ডাসার উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি। নির্ধারিত সাত কার্যদিবসের মধ্যে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ১৩ জুন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খান মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
এই বহিষ্কারাদেশের পর থেকেই নাজমুল হাসান ক্ষুব্ধ হয়ে সংগঠনের সভাপতি ভুক্তভোগী সাংবাদিক হেমায়েত হোসেন খানের বিরুদ্ধে মিথ্যা গল্প বানিয়ে পরিকল্পিত ভাবে অপপ্রচারে নেমেছেন বলে জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কিছু দুষ্কৃতিরা ডাসার উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ হেমায়েত হোসেন খান এর বিরুদ্ধে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, বহিষ্কারের পর 'থেকেই-ফেস দ্য টাইম' (Face The Time) এবং Nazmul Hasan নামক দুইটি ফেসবুক পেজ খুলে নাজমুল হাসান ধারাবাহিক ভাবে একের এক মিথ্যা ও মানহানিকর কনটেন্ট প্রচার করে আসছে।
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বহিষ্কৃত নাজমুল হাসান, সাংবাদিক হেমায়েত হোসেন খানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্ম তারিখ এবং পেশাগত জীবন নিয়ে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক তথ্য সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ হেমায়েত হোসেন খান বলেন, “আমি ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মাদারীপুর জেলা জজ আদালতে আইন পেশায় মুহুরী হিসেবে কাজ শিখেছি।
আমার ছাত্র লাইফে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রতিকূলতার কারণে পড়ালেখায় বিরতি থাকলেও ২০১৬ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আমি এসএসসি পাস করি।
পরবর্তীতে ২০২১ সালে যথাযথ প্রক্রিয়ায় মাদারীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির মুহুরী হিসেবে লাইসেন্স গ্রহণ করে নিয়মিত কাজ করে আসছি, পাশাপাশি আমি সাত বছর যাবৎ জনপ্রিয় একটি জাতীয় দৈনিক 'বাংলাদেশের আলো' ও একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সুনামের সাথে কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার পেশাগত স্বচ্ছতা ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রী মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
দুস্কৃতিকারীরা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা যে বানোয়াট গল্প প্রচার করছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি এই ঘৃণ্য অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।”
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও
সাংবাদিকতার নামে এআই প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত চরিত্র হননের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। এ ধরনের কাজকে সাইবার অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে জড়িতের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা।