এইচ,এম,পান্না,ষ্টাফ রিপোর্টারঃ-বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরে সিসি ক্যামেরাসহ নিরাপত্তা কর্মীদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বুধবার রাতে এসিল্যান্ড অফিসে রহস্যজনক চুরির ঘটনা ঘটেছে। রহস্যজনক চুরির ঘটনায় প্রশাসনের রহস্যজনক আচরণ। অফিসের প্রায় আড়াই লাখ টাকা চুরির ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে ওই অফিসের নৈশ প্রহরীকে আটক করলেও বিকেলে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ঠ সূত্রসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের দ্বিতীয় তলায় বুধবার রাতে গ্রীল কেটে পেশকার মাসুদুর রহমানের কক্ষে চোর প্রবেশ করে নগদ ২লাখ ৩৫হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে অফিসে এসে ঘটনা জানতে পেরে বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই অফিসের নৈশ প্রহরী মাসুদ খানকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মাসুদ বরিশাল সদরের ১০ নংওয়ার্ডের মৃত আব্দুল হালিম খানের ছেলে। চুরির ঘটনার বিষয়ে জানতে সহকারী কমিশনারের সরকারী নম্বরে একাধিবার ফোন দিলেও তিনি রহস্যজনক কারনে ফোন রিসিভ করেন নি।
আগৈলঝাড়ার থানার ওসি (তদন্ত) মো. জহিরুল ইাসলাম চুরির ঘটনা স্বীকার করে বলেন ঘটনার জন্য কেউ কোন অভিযোগ দাখিল করেনি। অভিযোগ না দিলে তাদের কি করার আছে। যাদের অফিস চুরি হয়েছে তারা নিজেরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। নৈশ প্রহরী মাসুদকে আটকের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন থানায় কোন লোক আটক নেই। এদিকে চুরির ঘটনার সময়ে ভূমি অফিসের সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ঠ এক কর্মকর্তা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করেও আগে পরের কোন ব্যক্তিকে সনাক্ত করা যায়নি। সূত্র মতে অফিস থেকে ২লাখ ৩৫হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুরির ঘটনায় থানায় আটক মাসুদকে বিকেলে সহকারী কমিশনার উম্মে ইমামা বানিনের নির্দেশে মাসুদের স্ত্রীর জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। মাসুদকে নিয়ে ঘটনাস্থলে রয়েছে সহকারী কমিশনার ও পুলিশ সদস্যরা।
আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারিহা তানজিন জানান- বিষয়টি এখনও দেখছেন। টাকাটা চুরি হয়েছে না অন্য কোথাও আছে তা তিনি দেখবেন। যদি একান্তই টাকা না পাওয়া যায় তাহলে মামলা করবেন। নির্বাচন উপলক্ষে আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের পুলিশ, আনসার ও নিজস্ব প্রহরীর নিরাপত্তা ছাড়াও সিসি ক্যামেরার মধ্যে সরকারী অফিস থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এত টাকা অফিসে নগদ থাকে কিভাবে? ঘটনার সাথে জড়িতদের খুজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।