পলাশ তালুকদার গৌরনদী বরিশাল প্রতিনিধিঃ-
ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহরমের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরা, মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। ইতিহাস, ইবাদত এবং আত্মত্যাগের অনন্য শিক্ষায় সমৃদ্ধ এই দিনটি যুগে যুগে ঈমানদারদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই দিনে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত মূসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফিরআউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়ে সমুদ্র পার হওয়ার অলৌকিক সুযোগ দান করেন। এ ঘটনাকে আল্লাহর সাহায্য ও সত্যের বিজয়ের উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে স্মরণ করা হয়।
অন্যদিকে, হজরত মুহাম্মদ (সা.) আশুরার দিনের গুরুত্ব বিবেচনায় ৯ ও ১০ মহরম অথবা ১০ ও ১১ মহরম রোজা রাখার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আশুরার রোজার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে পূর্ববর্তী এক বছরের ছোট গুনাহ ক্ষমার আশা করা যায়।
ইসলামের ইতিহাসে আশুরার সবচেয়ে বেদনাবিধুর অধ্যায় হলো কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদের শাহাদাত। সত্য, ন্যায়, ইনসাফ ও ইসলামী আদর্শ রক্ষায় তাঁদের আত্মত্যাগ মানবজাতির জন্য চিরন্তন প্রেরণা হয়ে রয়েছে।ধর্মীয় বিশারদরা বলেন, আশুরার মূল শিক্ষা কেবল শোক প্রকাশ নয়; বরং সত্যের পক্ষে অবিচল থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আত্মত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলা।
এই দিন উপলক্ষে মুসলমানদের জন্য ৯ ও ১০ মহরম অথবা ১০ ও ১১ মহরম রোজা রাখা, বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও নেক আমলে আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আশুরার শিক্ষা হোক সত্য, ন্যায়, ধৈর্য ও তাকওয়াভিত্তিক জীবন গঠনের প্রেরণা—এটাই হোক সবার প্রত্যাশা।