মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নড়াইল প্রতিনিধিঃ-
নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামের নিভৃত পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে জারী গানের সম্রাট, চারণ কবি মোসলেম উদ্দিনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক "দরগা শরীফ"। এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং বাংলা জারী গানের ইতিহাস, আধ্যাত্মিক সাধনা ও লোকসংস্কৃতির এক জীবন্ত সাক্ষী।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জীবদ্দশায় চারণ কবি মোসলেম উদ্দিন প্রায়ই এই দরগা শরীফে বসে মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল (সা.)-এর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। তাঁর রচিত অসংখ্য কালজয়ী জারী গানের অধিকাংশই এই পবিত্র স্থানকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে দরগা শরীফটি আজও তাঁর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের এক মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এক গম্বুজবিশিষ্ট এই দরগা শরীফের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর মনোরম ও শীতল পরিবেশ। বছরের প্রায় সব সময়ই এখানে শীতল বাতাস প্রবাহিত হতে দেখা যায়, যা দর্শনার্থীদের মনে এক অনাবিল প্রশান্তির অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
বর্তমানেও প্রায়শই দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মোসলেম উদ্দিনের শিষ্য, ভক্ত ও অনুসারীরা এখানে এসে নিরিবিলি পরিবেশে ধ্যানমগ্ন হয়ে সময় কাটান। অনেকেই এটিকে আত্মশুদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তির এক অনন্য স্থান হিসেবে মনে করেন।
চারণ কবি মোসলেম উদ্দিন ১৯০৪ সালের ২৪ এপ্রিল নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জারী গানের মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ জনপদের মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের পর ১৯৯০ সালের ১৯ আগস্ট তিনি লক্ষ লক্ষ ভক্ত-অনুরাগীকে শোকসাগরে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি জমান।
তবে মৃত্যুর পরও তাঁর স্মৃতি, সৃষ্টি ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার আজও বেঁচে আছে তারাপুরের এই ঐতিহাসিক দরগা শরীফকে ঘিরে। সংস্কৃতিপ্রেমী, গবেষক ও ভক্তদের কাছে এটি আজও এক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান এবং বাংলার লোকসংস্কৃতির গৌরবময় ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।