মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ঐতিহাসিক বারো আউলিয়ার মাজারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন ওরস মাহফিলকে সামনে রেখে ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রোফাইল থেকে মাজারে কথিত শিরক, বিদআত, অপসংস্কৃতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে একাধিক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ছে।এসব পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, মাজারকে কেন্দ্র করে গান-বাজনা, মাদক সেবন, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ সংঘটিত হয়ে আসছে। একই সঙ্গে কিছু পোস্টে স্থানীয় আলেম সমাজকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বানও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মাজার পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয়দের একটি অংশ বলছেন, বারো আউলিয়ার মাজার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ। শত শত বছর ধরে এখানে ওরস ও ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন।
প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, কয়েকশো বছর আগে ১২ জন সুফি সাধক বা আউলিয়া চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এসে এ এলাকায় ইসলাম প্রচার করেন। পরবর্তীতে তাঁদের সমাধিকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে “বারো আউলিয়ার মাজার”। মাজারটি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। যদিও এর প্রতিষ্ঠাকাল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সরকারি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, স্থানীয়দের মতে এটি কয়েকশো বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক স্থান।
এদিকে আগামী ১৪ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক বারো আউলিয়ার মাজার শরীফের ওরসকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। এ উপলক্ষে ১১ মে ২০২৬ তারিখে মাজার শরীফ পরিদর্শন করেন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব সিফাত-ই-রাব্বান।
পরিদর্শনকালে তিনি ওরস উপলক্ষে গৃহীত সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। মাজার এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, সাদা পোশাকে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পাশাপাশি তিনি মাজার পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করে অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শইমী ইমতিয়াজ, আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমানসহ মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা যাচাইবিহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।