প্রতিদিনের ক্রাইম নিউজ ডেস্ক, বরিশাল-গৌরনদী:
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকর্মী গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন একজন শিক্ষক, ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী। তাঁদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পূর্ব বাকাল গ্রামের মৃত সোলেমান সরদারের ছেলে ও বাকাল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. অলিউল রহমান, মধ্য শিহিপাশা গ্রামের হালিম খলিফার ছেলে রবিউল খলিফা, বাকাল গ্রামের হানিফ মৃধার ছেলে রাব্বি মৃধা, পূর্ব সুজনকাঠী গ্রামের রজব আলী সরদারের ছেলে ও গৈলা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি কামরুল সরদার, উত্তর শিহিপাশা গ্রামের শাহে আলম সরদারের ছেলে ও গৈলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল সরদার, কালুপাড়া গ্রামের মৃত আশ্রাব সরদারের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সরোয়ার সরদার এবং মুড়িহার গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাজিব সরদার।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আগৈলঝাড়া-পয়সারহাট সড়কের বাকাল পয়সা এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ ঘটনায় ওই রাতেই থানা পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে। পরে ওই মামলায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন। তাঁর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি রাজনৈতিক হয়রানির অংশ।
তিনি দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া মো. অলিউল রহমান বর্তমানে আগৈলঝাড়া সদরের ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমির শিক্ষক। ছাত্রজীবনে তিনি বাকাল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় না থাকলেও তাঁকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাজিব সরদার ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ নেতা লিটন। একইভাবে গৈলা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল সরদারকেও পরিকল্পিতভাবে হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে মামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট এবং রাজনৈতিক হয়রানির দাবিকে ঘিরে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।