এ,এস, মামুন, স্টাফ রিপোর্টার:-
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বসতঘরের ভেতরে রহস্যজনকভাবে তৈরি করা দুটি কবর নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে সরেজমিনে তদন্ত করে কবর দুটি ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা নেয় উপজেলা প্রশাসন।
গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল ও আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বাড়ির বাসিন্দা সজীব বেপারী ও তাঁর মা শিউলি বেগমের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রশাসনের কাছে সজীব বেপারী স্বীকার করেন, কবর দুটি তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে তিনি নিজ হাতে কবর দুটি ভেঙে ফেলেন। তবে কী কারণে তিনি বসতঘরের ভেতরে কবর দুটি তৈরি করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে প্রশাসনের কাছে মুচলেকাও দেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক সালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী প্রায় ছয় মাস ধরে বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে। প্রতিদিন সেখানে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়, প্রতি সোমবার সকাল ১০টায় একটি এবং রাত ১২টায় অন্য কবরটি জেগে ওঠে। ঘরের ভেতরে তৈরি করা কবর দুটিকে বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী ও খাজা মঈনউদ্দীন চিশতির কবর বলে দাবি করা হচ্ছিল। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কবর দুটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। পাশাপাশি সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও বেড়ে যায় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল সাংবাদিকদের বলেন, সজীব বেপারী কবর দুটি নিজে তৈরি করার কথা স্বীকার করেছেন। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর উপস্থিতিতে সজীব নিজেই কবর দুটি ভেঙে ফেলেছেন।